জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ ও তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক একই আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৃথক দুটি দল থেকে তারা নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
দুজনের দাখিল করা হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাবার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সম্পদের মালিক ছেলে হান্নান মাসউদ।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নে আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক তার মোট সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা। অন্যদিকে আব্দুল হান্নান মাসউদ তার মোট সম্পদের হিসাব দিয়েছেন ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা।
২৬ বছর বয়সী আব্দুল হান্নান মাসউদ হলফনামায় নিজেকে ‘ডিজিল্যান্ড গ্লোবাল’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে—নগদ ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৫ টাকা, ব্যাংকে জমা ২ হাজার ৫৫ টাকা, ১ লাখ টাকার ঋণপত্র, ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র। এসব সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩০ টাকা হলেও বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৩০ টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা।
অন্যদিকে, আব্দুল হান্নান মাসউদের বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার কাছে নগদ রয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমা রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা। এছাড়া ২৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্রের মালিক তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, কৃষি ও অকৃষি খাতে তিনি মোট ১৬৮ শতাংশ জমির মালিক। সম্পদের তথ্য বিষয়ে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমি আমার মোট সম্পত্তির বিবরণ হলফনামায় উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, “ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করে ভালো পরিমাণ আয় করেছি। পাশাপাশি ব্যবসা থেকেও আয় হয়েছে। গত এক বছরে বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক উপহার পেয়েছি। হলফনামায় যে আয়ের হিসাব দিয়েছি, তা সম্পূর্ণ সত্য। আমি কিছুই গোপন করিনি।”
উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে থাকা হান্নান মাসউদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন হান্নান মাসউদ ও তার বাবা।
নির্বাচনে আব্দুল হান্নান মাসউদ শাপলা কলি প্রতীকে এবং তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে একতারা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


