গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ২৭৯ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। বুধবার (১৯ নভেম্বর) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই সময়ে অন্তত ৬৫২ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ৩৫ জন গাজাবাসীকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে তারা ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে অঞ্চলজুড়ে চলমান হামলায় নিহতের সংখ্যা ৬৮ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
চলতি বছরের শুরুতেও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে ইসরায়েল গত ২৭ মে থেকে গাজায় পৃথক সাহায্য বিতরণ উদ্যোগ শুরু করে। এই উদ্যোগের কারণে অঞ্চলটিতে দুর্ভিক্ষ প্রকট হয়ে ওঠে। খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের কাছে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়, এতে শত শত মানুষ নিহত হন। দুর্ভিক্ষেও শিশুসহ বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এ অবস্থায় ৬ অক্টোবর মিশর, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হয়। ৯ অক্টোবর পক্ষগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার চুক্তিতে সই করে। ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, গাজায় সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি।


