সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চায়। আগে নেতারা বলতেন, জনতা শুনত—কিন্তু এখন মানুষ চায় জনপ্রতিনিধিরা শুধু বলবেন না, জনগণের কথা শুনবেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাক-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় তিনি এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা জানতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের তিনটি প্রধান প্রত্যাশা স্পষ্ট—
১) প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচন,
২) নির্বাচনে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ,
৩) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধ।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ব্যয় কমানো না গেলে দুর্নীতি কমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে দলগুলোর যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার ওপরও জনগণ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ চায় প্রতিটি জনপ্রতিনিধি বছরে অন্তত একবার তার কাজের হিসাব দেবেন—এই জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
বরিশাল অঞ্চলের বিশেষ সমস্যা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন—ভোলার গ্যাসের যথাযথ ব্যবহার না হওয়া, কৃষিভিত্তিক শিল্পে স্থবিরতা এবং যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির অভাব।
তিনি জানান, সংলাপে নিরাপত্তাহীনতার প্রসঙ্গ সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে এসেছে। এই নিরাপত্তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তাও এর অন্তর্ভুক্ত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সুশাসন ও প্রশাসনের দক্ষতার ঘাটতি—সবকিছু মিলেই নিরাপত্তা সংকট গভীর হয়েছে। তার মতে, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিগত দেড় দশককে তিনি ‘অলিগার্ক উত্থানের দশক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে নিজেদের স্বার্থে নীতি প্রণয়ন করেছে। ব্যাংক, জ্বালানি, পুঁজিবাজার, অফশোর ব্যাংকিং ও অবৈধ অর্থপাচার—সব ক্ষেত্রেই তারা জড়িত থেকেছে। দেশের দুই ফুসফুস—আর্থিক খাত ও জ্বালানি খাত—এই গোষ্ঠী ক্ষয় করেছে।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, কৃষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেন। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ভূমি হারানোর আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। তাদের কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগও তোলা হয়। এক রাজনৈতিক কর্মী অভিযোগ করেন, প্রশাসন দলীয়করণে আক্রান্ত; এমনকি পুলিশ কর্মকর্তারাও রাজনৈতিক পরিচয়ে আচরণ করেন।


