বাংলাদেশের রোবটিক্স জগতে পরিচিত মুখ এ এস ফারদিন আহমেদ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের স্টার্টআপ ‘ফারবোট রোবটিক্স’ ধ্বংসের গল্প শেয়ার করেছেন। দীর্ঘ ১২ বছরের গবেষণার অভিজ্ঞতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা এই স্টার্টআপ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে বিকাশ লিমিটেডের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।
২০২১ সালের নভেম্বর মাসে বিকাশ লিমিটেডের একটি টিম ফারদিন আহমেদের উদ্ভাবিত কাস্টমার কেয়ার রোবট দেখে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা একটি রোবট কেনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সব কাস্টমার কেয়ারে রোবট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানায়। এতে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বিকাশের চাহিদা অনুযায়ী রোবটটি উন্নত করতে কাজ শুরু করেন।
প্রায় তিন বছর ধরে ৫টি ধাপে রোবটটি বিকাশের চাহিদামাফিক উন্নয়ন করা হয়। প্রতিটি ধাপে দীর্ঘ সময় এবং অসংখ্য মিটিংয়ের পরও বিকাশ থেকে কোনো ডাউন পেমেন্ট দেওয়া হয়নি। বরং প্রতিবার নতুন কাজ দেওয়ার সময় আগের কাজের মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়।

এই প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে ফারদিন আহমেদ নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছেন। এমনকি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অবস্থায়ও কাজ চালিয়ে গেছেন। রোবট তৈরির ব্যয় নির্বাহের জন্য নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির আয় ব্যবহার করতে বাধ্য হন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বিকাশ রোবটটির চূড়ান্ত সংস্করণ পরীক্ষা করে এক সপ্তাহের মধ্যে বিল পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিকাশের সাপ্লাই চেইন বিভাগের প্রধান জানান, তাদের নীতিমালায় অগ্রিম বা কাজের বিল প্রদান সম্ভব নয়। এরপরও ফারদিন আরও এক বছর কাজ চালিয়ে যান।
২০২৫ সালে প্রজেক্ট সম্পন্ন করার পর বিকাশ লিমিটেড তার সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তিন বছরের কঠোর পরিশ্রমের পরও তিনি এক টাকাও পাননি। এতে ‘ফারবোট রোবটিক্স’ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

ফারদিন বলেন, “এক বছরে ২৫ বিলিয়ন রেভিনিউ করা একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের মতো ছোট স্টার্টআপকে ধ্বংস করল। এই কাজটি অন্য কোথাও হলে অন্তত ৫ কোটি টাকা খরচ হতো। আমি চাই না দেশের আর কোনো স্টার্টআপের সঙ্গে এমন অন্যায় হোক।”
তিনি জানান, বিকাশের দেওয়া প্রতিটি কাজের ইমেইল, মিটিংয়ের তারিখসহ সব প্রমাণ তার কাছে রয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ছোট স্টার্টআপদের আস্থা ও নির্ভরতার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফারদিন আহমেদ এখন দেশ ছাড়ার চিন্তা করছেন এবং প্রযুক্তি খাতে ন্যায্য আচরণের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।


